মোমিনুর রহমান দেবহাটা থেকেঃ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভোক্তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করছেন কয়েকজন সনদধারী ডিলার। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী পেট্রোল প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং অকটেন প্রতি লিটার ১৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু দেবহাটার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন ডিলার পেট্রোল ১৪৫ টাকা এবং অকটেন ১৫০ টাকা প্রতি লিটার দরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার পারুলিয়া, কুলিয়া, সখিপুর, গাজীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার ভোক্তারা জানান, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিক্রেতাদের কাছ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি জ্বালানি না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তাদের দাবি, উপজেলার একাধিক ডিলার পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একই দামে জ্বালানি বিক্রি করছেন, যা কার্যত একটি সিন্ডিকেটের রূপ নিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন।
এ বিষয়ে পারুলিয়া এলাকার একটি ডিলার প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে পাম্প থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যেই জ্বালানি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি পাম্প থেকে সরকারি মূল্যে জ্বালানি কেনা হয়, তাহলে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৫ টাকা নেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়? তাদের মতে, পরিবহন ব্যয়ের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি মূল্য কার্যকর রাখতে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।