প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ১:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৯, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
ঘেরের কাজে গিয়ে ফিরলেন লাশ: পাইকগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের করুণ মৃত্যু

পাইকগাছা প্রতিবেদক:সংসারের চাকা সচল রাখতে সকালে হাসিমুখে কাজে বেরিয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী ইমান মোড়ল। জাল হাতে মাছ ধরার স্বপ্নে বিভোর শ্রমিকের সেই স্বপ্ন চিরতরে নিভে গেল এক মুহূর্তের অসতর্কতায়। খুলনার পাইকগাছায় চিংড়ি ঘেরে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। ৯ মে শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কৈয়াসিটিবুনিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইমান মোড়ল উপজেলার গজালিয়া গ্রামের জিবা মোড়লের ছেলে। পেশায় দিনমজুর এই মানুষটিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। যেভাবে ঘটল সেই দুঃস্বপ্ন- স্থানীয়রা জানান, কৈয়াসিটিবুনিয়া গ্রামের ইকবাল হাজীর চিংড়ি ঘেরে চুক্তিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার কাজ করছিলেন ইমান। ঘেরের ঝুপড়ি ঘরে রাতে আলো জ্বালানোর জন্য বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। কাজ করার সময় হঠাৎ অসাবধানতাবশত ঘেরের ভেড়িবাঁধ থেকে পা পিছলে পড়ে যান তিনি। দুর্ভাগ্যের বিষয়, নিচে পড়ার সময় তিনি সরাসরি সেখানে থাকা বিদ্যুতের খোলা তারের ওপর গিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সহকর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মুহূর্তেই হাসপাতালের বাতাস নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে। দুপুরের তপ্ত রোদে যখন ইমান মোড়লের নিথর দেহ গ্রামে এসে পৌঁছায়, তখন পুরো গজালিয়া গ্রামে নেমে আসে শোকের মাতম। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা তার স্বজনরা। বিলাপ করতে করতে এক স্বজন বলেন, "সকালে খেয়ে কাজে গেল মানুষটা, এখন ফিরল সাদা কাপড়ে ঢাকা লাশ হয়ে। আমাদের এখন কী হবে?" বিকেলে হাসপাতাল থেকে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি অরক্ষিত বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
https://satnadee.com/