
অনলাইন ডেস্ক : কুরবানির ঈদে গোশত কাটায় ছেলে-বুড়ো সবাই মিলে হাত লাগান। কেউ প্রথমবার ছুরি ধরছেন, কেউ আবার আবেগের বশে নিজেই সব করতে চাইছেন। তবে এই আনন্দের মাঝেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।
প্রতি বছর কুরবানির ঈদের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভিড় জমে আহত মানুষের। শতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন শুধু পশু কুরবানি ও মাংস কাটাকাটির কারণে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, প্রতি কুরবানির ঈদেই এই চিত্র দেখা যায়। হাত-পায়ে কাটা ও ক্ষতসহ নানানভাবে আহত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন।”
তার পরামর্শ, গোশত কাটার কাজ পেশাদার মানুষের হাতে ছেড়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শখের বশে বা আবেগে নিজে করতে গিয়ে যে ক্ষতি হয়, তা অনেক সময় সারতে দীর্ঘদিন লেগে যায়।
অনেকে মনে করেন ধারালো ছুরিতে বিপদ বেশি। আসলে উল্টোটা সত্যি। ভোঁতা ছুরিতে বেশি জোর দিতে হয়, ফলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। ছুরি হঠাৎ পিছলে হাতে বা পায়ে আঘাত করে। ধারালো ছুরি দিয়ে কম চাপে কাজ হয়, তাই নিয়ন্ত্রণ থাকে হাতে।
মনোযোগ সরলেই বিপদ
গোশত কাটার সময় যে ভুল বেশি হয়, তাহলো মনোযোগ সরে যাওয়া। পাশ থেকে কেউ ডাকল, ফোন বাজল, কেউ কিছু চাইল, আর সেই মুহূর্তেই ঘটে দুর্ঘটনা।
ফোন সাইলেন্ট মুডে রাখা ভালো, ছোটদের গোশত কাটার জায়গা থেকে দূরে রাখতে হবে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দেওয়া যাবে না।
কেটে গেলে প্রথম পাঁচ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
যত সাবধানেই থাকা হোক, দুর্ঘটনা কখনও কখনও ঘটে যায়। সেই মুহূর্তে ঘাবড়ে না গিয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।
ডা. আহমেদ বলেন, কেটে গেলে প্রথমেই পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে কাটা জায়গায় জোরে চাপ দিয়ে ধরতে হবে। আর ধরাটা হবে অন্তত পাঁচ থেকে দশ মিনিট। মাঝে মাঝে উঠিয়ে দেখা যাবে না, এতে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। রক্ত পড়া বন্ধ হলে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগিয়ে পরিষ্কার ব্যান্ডেজ করতে হবে।