নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোবরদাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সদর উপজেলার সর্বকাশেমপুর (গোবরদাড়ী) গ্রামের বাসিন্দা মো. মোজাফফার হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান বিধি অনুসরণ না করে তাঁর চাচাতো শ্যালক সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আবুল হোসেনকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করেছেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে অর্থ লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কৃষি শিক্ষা বিভাগের এক সহকারী শিক্ষক দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও ভুয়া চিকিৎসা সনদ দেখিয়ে ছুটি ও বকেয়া বেতন পেয়েছেন। একই সঙ্গে এক নিরাপত্তাকর্মী নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও বেতন উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এসব ক্ষেত্রে সুপার ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশের অভিযোগ করেন বক্তা।
এ ছাড়া আয়া, নিরাপত্তাকর্মী, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে অনিয়ম, জেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
মোজাফফার হোসেন দাবি করেন, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রেও অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য তিনি জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোবরদাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ও অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আবুল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।