মোজাফ্ফর রহমান: ‘শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার, উসকানি কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।’—বলেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ ঘিরে জেলার ৬১২ টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ। দৃশ্যমান পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল। সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। সাতক্ষীরার মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দৃশ্যমান পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি পূজা কমিটি ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, পূজা কমিটি, মন্দির কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে একটি নিরাপদ ও উৎসবমুখর দুর্গোৎসব নিশ্চিত করতে চায় জেলা পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জদের ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ, জনসমাগমস্থল ও বিসর্জনস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, চলতি বছর সাতক্ষীরায় ৫৯১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে নানা ব্যতিক্রমী আয়োজন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে এবার দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা। মণ্ডপটি ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে কলারোয়া পৌর সদরের উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়ার পূজামণ্ডপে প্রায় ৫০ কেজি পাটের আঁশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা। প্রতিমাটি দেখতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন।
মতবিনিময় সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজা চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মিথুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শাহীনুর চৌধুরী, জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১আব্দুল আলিম, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি সোমনাথ ব্যানার্জি, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন কুমার শীলসহ সাত উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে পুলিশ প্রশাসন ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।