
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বনজীবী ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শ্যামাপ্রসাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বনজীবীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অবৈধভাবে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণে সহায়তা, এবং বনসম্পদ পাচারের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, বৈধ পাশ থাকা সত্ত্বেও তাদের কাছ থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধ প্রবেশ ও পোনা নিধনের মতো পরিবেশ-বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
বনজীবীদের একাধিক সূত্র জানায়, “প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর প্রকাশের পর আমরা বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত করে তাকে অপসারণ করা হোক।” স্থানীয় সুধী মহলেরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই এলাকায় থেকে তিনি একটি প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সুন্দরবনের দুর্নীতি ও অপকর্ম শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী জানান, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
বন বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শ্যামাপ্রসাদের অতীত কর্মস্থল, অভিযোগের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শ্যামাপ্রসাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি নিয়ম মেনেই কাজ করছি। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর প্রশাসনের সক্রিয়তা বাড়ায় এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল পরিবেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।