মেহেদী হাসান: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর পানিশূন্যতা ঠেকাতে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি তরল খাওয়াতে হচ্ছে। আর সেই প্রয়োজন মেটাতে হাসপাতালের আশপাশে ডাব কিনতে গিয়ে বাড়তি দামের চাপে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছোট একটি ডাবের দাম উঠেছে ১২০ টাকা, মাঝারি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বড় আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ডাব কিনতে এসে একদিকে রোগীর চিকিৎসা ব্যয়, অন্যদিকে ডাবের বাড়তি দাম দুই দিক সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্বজনরা।সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা যায়, আকারভেদে ডাবের দামে বেশ পার্থক্য থাকলেও তুলনামূলকভাবে সব ডাবই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। একটি ডাব কাটার পর অনেক সময় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পানি মিললেও এর জন্য গুনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।ডেঙ্গু রোগীর স্বজন ফয়সাল বলেন, তার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে মাঝারি আকারের চারটি ডাব কিনেছেন, প্রতিটির দাম পড়েছে ১২০ টাকা।আরেক ক্রেতা সন্তোষ বলেন, আগের তুলনায় ডাবের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে গিয়ে আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে।মাসুদ নামের আরেক ক্রেতা বলেন, হাসপাতালে তাদের ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। রোগীকে বেশি করে তরল ও পানীয় খাওয়াতে হচ্ছে। এ কারণে বাড়তি দাম হলেও ডাব কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাবের চাহিদাও বেড়েছে। আর এই বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিক্রেতাদের দাবি, তারা নিজেরাও পাইকারি বাজারে বাড়তি দামে ডাব কিনছেন।ডাব বিক্রেতা জহির গাজী বলেন, ডেঙ্গুর অজুহাতে পাইকারি বিক্রেতারা তাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছেন। ছোট-বড় সব ডাবই তাদের একই দামে কিনে আনতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।আরেক বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম দুলাল বলেন, প্রায় ১২ দিন ডাব পাননি, ফলে দোকানও বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন সংসারের খরচ মেটাতে বাড়তি দামে ডাব কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।তবে ডেঙ্গু রোগীর পানিশূন্যতা মেটাতে শুধু ডাবের পানির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।