স্টাফ রিপোর্টার: দেবহাটার খলিসাখালি পল্লীতে বাবা-ছেলেকে মারপিট করে গুরুতর জখম করায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোববার (১৯ জানুয়ারী) বিকাল ৪টায় খলিসাখালি ভ‚মিহীন কমিটির আয়োজনে বসুখালি-চিংড়িখালি ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তায় মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে খলিসাখালি ভ‚মিহীন কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম বুল্লার সভাপতিত্বে ভ‚মিহীন নেতা রিপন হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কমিটির প্রধান উপদেষ্ঠা শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারী রবিউল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভ‚মিহীন নেতা গোলাপ ঢালী, গোলাম রব্বানী, বাবলু হোসেন, মজিদ গাজী, জামসেদ সরদার, রিয়াজুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, আইয়ুব গাজী, মিলন হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা পাঁচ শতাধিক পরিবার দেবহাটা থানার পারুলিয়া মৌজার সিএস ১৮১২ নং খতিয়ানের সর্বমোট ৪৩৯.২০ একর সম্পত্তিতে ভ‚মিহীন পরিবার হিসাবে বিগত ২০২১ সাল থেকে বসবাস উপযোগী ঘর বাড়ী নির্মান করে বসবাস সহ মৎস্য চাষ করে আসছি। গত ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সন্ত্রাসীরা আকস্মিক ভাবে আমাদের ঘর বাড়ীতে আক্রমন ও ভাংচুর করে আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ঘরে থাকা ম‚ল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। এছাড়া আমাদের মৎস্য ঘের দখল করে বিভিন্ন প্রজাতির আনুমানিক ২ কোটি টাকা ম‚ল্যের মাছ লুট করে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় সন্ত্রাসীরা ক্ষীপ্ত হয়ে ১ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় ভ‚মিহীন সদস্য আব্দুল হালিম গাজীর ছেলে ওসমান হায়দার রনি (১৮) কে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ছেলেকে দেখাশুনা করা অবস্থায় ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ইটাগাছায় সংলগ্ন পাঁকা রাস্তার উপর পৌছালে সন্ত্রাসীরা আব্দুল হালিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী কোপাতে থাকে। এসময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে যেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতক্ষীরা ভর্তি করে। বর্তমানে বাবা-ছেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এঘটনায় আহত আব্দুল হালিমের স্ত্রী মারুফা খাতুন একটি মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভ‚ক্তভোগীরা।