ইশারাত আলী, বিশেষ প্রতিনিধি :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত কোটি কোটি টাকার আমানত আটকে রেখে বাউন্স চেক দেওয়ার অভিযোগে বিতর্কিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বুশরা গ্রুপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা। মেয়াদ শেষ হলেও আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা, চাপ ও ভয়ভীতি দেখানোর পর এবার পাওনা পরিশোধের নামে দেওয়া ব্যাংক চেকও পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে ডিজঅনার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইকবাল কবির পলাশের বিরুদ্ধে আদালতে একের পর এক মামলা করছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর বুশরা গ্রুপের বিভিন্ন প্রকল্প ও সমবায় প্রতিষ্ঠানে টাকা জমিয়েছেন স্থানীয় শত শত মানুষ। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর টাকা চাইলে শুরু হয় কালক্ষেপণ। গ্রাহকদের চাপের মুখে পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেক দেওয়া হলেও ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর তা বাউন্স করে। ফলে আমানত ফেরতের বদলে গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘চেকের ফাঁদ’।
গ্রাহক বদরুজ্জামান, মাহবুবর রহমান, মনোয়ারা পারভীন, আবুল কালাম আজাদসহ শতাধিক আমানতকারী চেক ডিজঅনারের ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। এসব মামলার একাধিক নথি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এদিকে সম্পদ গোপনে বিক্রি বা হস্তান্তরের আশঙ্কায় গত ২৭ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্মারকলিপির স্মারক নম্বর ১০৪০। এতে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধের আগে বুশরা গ্রুপের সম্পদ হস্তান্তর বন্ধ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “জীবনের সব সঞ্চয় রেখে আজ আমরা নিঃস্ব। টাকা চাইলে হয়রানি ও মামলার ভয় দেখানো হয়।”
গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত বুশরা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সম্পদ সরিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এখন প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকার এই আমানতের দায় নেবে কে, আর কবে ফিরবে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা?