শেখ মোস্তফা কামাল, কেশবপুর থেকে: উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা ও সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে যশোরের কেশবপুরে। এ উপলক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে অবস্থিত যশোর জেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনীগ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।
পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ-সম্পাদক মানব মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান জনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আলোচনায় বক্তারা বলেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্য ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
এ বিদ্যালয়েই তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। দেশভাগের আগেই তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। কর্মজীবনে পুলিশ বিভাগে চাকরির পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং সাহিত্যচর্চায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’। বক্তারা আরও বলেন, পুলিশে কর্মরত অবস্থায় ধীরাজ ভট্টাচার্য বদলি হয়ে চট্টগ্রামে আসেন।
পরে তাঁকে টেকনাফে বদলি করা হয়। সেখানে গিয়ে সংগীত, নাটক ও থিয়েটারের প্রতি অনুরাগী ধীরাজ মগ রাজার কন্যা মাথিনের প্রেমে পড়েন। তাঁদের প্রেমকাহিনি বাংলা সাহিত্যের লাইলী-মজনু কিংবা শিরি-ফরহাদের প্রেমকাহিনির মতোই আলোচিত। কিন্তু নানা ঘটনার পরিণতিতে মাথিনকে বিয়ে না করেই কলকাতায় ফিরে যান ধীরাজ। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে মাথিন টেকনাফ থানার একটি কূপের পাশে অনশন শুরু করেন।
কথিত আছে, অনশনরত অবস্থায় একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীকালে সেই কূপটি ‘মাথিনের কূপ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। কলকাতায় ফিরে ধীরাজ ভট্টাচার্য চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। নায়ক ও খলনায়ক—উভয় চরিত্রেই অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যিক হিসেবেও তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন। বক্তারা বলেন, পাঁজিয়ার মাটিতে জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তিত্বের স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা, সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর জীবন ও কর্ম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রতিষ্ঠানের এই কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জীবন, কর্ম ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা উপভোগ করে। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।