ওসির মামলা নিতে গড়িমিসি
সংখ্যালঘু পরিবারটিকে দেশত্যাগের হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় এক হিন্দু পরিবারের পৈতৃক ও খরিদকৃত জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে উল্টো প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজশে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের । অভিযোগ রয়েছে, কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকন ও ছাত্র দলের সভাপতি প্রার্থী জাকির হোসেন নেতৃত্বে স্থানীয় একটি চক্র সংখ্যালঘু পরিবারটিকে দেশত্যাগের হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী জগবন্ধু দাস জানান, ২০১৩ সালে দানপত্র দলিলের মাধ্যমে কেনা চাঁচাই মৌজার .৫৩ শতক জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন তিনি । কিন্তু গত ১৬ জুন ভোরে অভিযুক্ত রেজাউল করিম, রাজ্জাক ঢালীসহ একটি সশস্ত্র দল জমির ঘেরাবেড়া ভাঙচুর করে । এসময় বাঁধা দিলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জমি ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় ।
ঘটনার দিন সকালে বিবাদীরা পাওয়ার ট্রিলার নিয়ে জমিতে চাষ শুরু করলে প্রতিবেশী শাহানারা খাতুন (৬৫) ও কিশোরী সাদিকা (১২) বাঁধা দেয় । এ সময় অভিযুক্তরা তাদের বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে । অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় শাহানারা খাতুনের গলা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অন্য এক আত্মীয়ের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় । বর্তমানে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক চাপে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি করছে কালিগঞ্জ থানা। ঘটনার আগে ২১ এপ্রিল জিডি (নং-১০৮৮) করা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সাথে যোগাযোগ রেখে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করে ‘মীমাংসা’ করার জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওসি কার্যত অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযুক্ত ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি । প্রভাবশালী বিএনপি নেতা রোকনুজ্জামান রোকনের নাম আসায় স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে ।
জগবন্ধু দাস আরো বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আর পুলিশ বিচার করার পরিবর্তে মীমাংসার নামে আমাদের কালক্ষেপণ করতে বাধ্য করছে।”
স্থানীয়দের মধ্যে মোঃ শাহ জামাল বলেন , হমলাকারীরা ২ শতক জমি পাবে তাও রাস্তার ধারে নয় বাগানের মধ্যে। কিন্তু তারা ২৮ শতক জমি জবর দখল করে নিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। প্রতিকার চাই।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলমের অধীনে ঐ পরিবার নিয়ে একটি শালিশে বসে গত ১১ মে ২০২৬ সোমবার। সেখানে ঐ শালিশের বাদি বেবাদী সর্বসম্মতিক্রমে শালিশ নামায় স্বাক্ষর করে বিরোধ মিটিয়ে নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে ঐ কুচক্রী মহলের উস্কানীতে আবার হামলা করে দখল নেয়।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. জুয়েল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্তের কথা বলে এড়িয়ে যান।