নিজস্ব প্রতিবেদন:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদের ওপর হামলা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ তারিখ রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে রামদা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে আহত করে এবং তার কাছে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে আহত সাংবাদিক কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ কালিগঞ্জ উপজেলার মহেশকুড় এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে সাংবাদিকতা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ তারিখ রাতে কালিগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে মহেশকুড় খালপাড় সড়কের মৃত খবির শেখের বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা স্থানে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।
ফিরোজ আহমেদের অভিযোগ, আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তদের মধ্যে মহেষকুড় এলাকার শুকুর আলীর ছেলে শেখ তাজিম , হাশেম সাহাজীর ছেলে রহিম সাহাজী ,আইয়ুব আলী সাহাজীর ছেলে মনি সাহাজী নিজদেবপুর এলাকার মৃত সাহাদত আলীর ছেলে মনিরুল হক তুহিন সহ আরও কয়েকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের একজন রামদা দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয়। এতে তার মাথার সামনের অংশে দুটি রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তিনি মোটরসাইকেলসহ সড়কে পড়ে গেলে অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার দুই পায়ের নিচের অংশে আঘাত করে।
ফিরোজ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা তার সঙ্গে থাকা একটি লাল ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ব্যাগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে চলতি মাসের ২১ তারিখ রাতে সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদের ছোট ভাই সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার পর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
কালিগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে হামলাকারীরা ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি হওয়াতে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।