শেখ আহসান হাবিব, কালিগঞ্জ থেকে: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের চাম্পাফুলে ঘুসুড়ি বাজার সংলগ্ন এল.জি.ইডির ৬৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের ১০ ফুট প্রস্থের নতুন একটি রাস্তা যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। রাস্তার কাজের প্রায় ৪০% যেতে না যেতেই ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠেছে এলাকাবাসীর ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। যার বাস্তব সত্যতা ও প্রমাণ মিলেছে।
সরজমিনে পরিদর্শন করে টেন্ডার পাওয়া মেসার্স বিশ্বজিৎ কনস্ট্রাকশন রাস্তা নির্মাণের প্রথম ৮০ মিটার সব নিয়ম মেনে করলেও পরের অংশ থেকে দুই নাম্বার ইটের খোয়ার সাথে রাতের আঁধারে ভাটার পরিত্যক্ত মাটি মিশ্রিত বালি ও রাবিশ ভরাটের প্রমাণ মিলেছে। রাস্তার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ওয়ার্ক সিডিউলে থাকলেও বাস্তবে কোথাও কোথাও ৮.১০ ফুট থেকে ৯ ফুট পাওয়া গেছে।
এছাড়া ৩টি বৈদ্যুতিক পোল রাস্তার মাঝখানে রেখেই চলছে কাজ যা অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়নি। বারবার এলাকাবাসী সিডিউল দেখতে চাইলে দেখানো পর্যন্ত হয়নি। খোয়ার সাথে মাটি ও রাবিশ মিশ্রণের বিষয়টি ধরা পড়ার পর ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি উপরে পানি দিয়ে দেয় যেন তা ধরা না পড়ে। এসব জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত ৪ দিন যাবত রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে ১০০০ এর অধিক স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। কিন্তু রাস্তার দুই পাশে বসতবাড়ি, ফসল ও মৎস ঘের রয়েছে যার পানি অপসারণ ব্যবস্থার ৩ ফুট প্রস্থের পাকা ড্রেন থাকলেও ৯০ ফুট পরে অজ্ঞাত কারনে সেটিও উধাও হয়ে যায়। রাস্তা কাঁচা থাকা অবস্থায় পানি কোনভাবে নিষ্কাশন হলেও বর্তমান পাকা রাস্তায় তার কোন বাজেট বা পরিকল্পনা রাখা হয়নি। যার ফলে রাস্তাটির ভবিষ্যৎ হবে ভয়াবহ।
এসব দুর্নীতির বিষয় নিয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, "তিনি বর্তমানে পূজার ছুটিতে বাড়িতে আছেন, তবে রবিবার সরজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিবেন এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হলে অর্থ পরিশোধ করা হবে না"।
এরপর ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের পক্ষে ম্যানেজার মো: মুন্নার সাথে সরাসরি দেখা করে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "একটি পয়েন্টে রাস্তার বিপরীতে পাঁচিল থাকায় রাস্তা ৯ ফুট করতে হয়েছে। খোয়ার সাথে রাবিশ মিশ্রণের ব্যাপারে বলেন, পূজার জন্য এক স্থানে মজুদ রাখা ২ গাড়ি খোয়া দ্রুত স্থানান্তরের ফলে এমন অঘটন ঘটেছে। আমি আজই ত্রুটিপূর্ণ খোয়া উঠিয়ে সম্পূর্ণ নতুন খোয়ার ব্যবস্থা করছি।
এলাকাবাসীকে কেন সিডিউল দেখানো হয়নি জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি। তবে তিনি রিপোর্ট টি প্রকাশ না করার জন্য বারংবার অনুরোধ করেন"। এখন এলাকাবাসী কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, যেন সিডিউল মোতাবেক এই রাস্তা নির্মাণ করা হয়, অন্যথায় কাজ বন্ধ থাকবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।