মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ ব্যুরো :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৫ নং পোল্ডার সেকেন্দারপুর মৌজার জগদানন্দপুর গ্রামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত জমি দখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। একই সাথে, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলাচলের পথ বন্ধ করার অভিযোগ রয়েছে, সেই একই ব্যক্তি ওই এলাকায় পাউবোর আরেকটি অবমুক্ত জলাশয় তিন বছর মেয়াদী ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন করা নিয়ে তোলপাড়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেকেন্দারপুর মৌজার এল এ কেস নং ১০৬/৬৮-৬৯ এর মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত জমির পার্শ্বে আবেদনকারীদের নিজ রেকর্ডভুক্ত জমি রয়েছে। এর সামনে পাউবোর অধিগ্রহণকৃত সাবেক ৩৭ নং দাগের আংশিক জমির বর্তমান হাল রেকর্ড অনুযায়ী ১৬২ ও ১৬৩ নং অবশিষ্ট জমি ভুক্তভোগীরা ভোগদখল করে আসছে শামসুর গং। কিন্তু সম্প্রতি ওই জমির অগ্রভাগে পাউবোর সম্পত্তিতে স্থায়ী বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন কালিগঞ্জের জগদানন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে মো. আব্দুর রহিম গাজী, কেনা গাজী ও শাহিনুর আলম। এর ফলে ভুক্তভোগী মো. ছামছুর গাজী, নূরুল ইসলাম, সালমা সুলতানা ও আসমা বেগমদের যাতায়াতের পথের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যিনি পাকা স্থাপনা বা বসতবাড়ি তুলেছেন মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. শাহিনুর আলম। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার সেকেন্দারপুর মৌজার এল.এ. কেস নম্বর ১০৬/৬৮-৬৯, সাবেক দাগ নম্বর ১৬২ ও ১৬৩ এবং হাল দাগ নম্বর ২০০৫ এর অন্তর্ভুক্ত ০.২০ একর পাউবোর মালিকানাধীন সাময়িক অবমুক্ত জলাশয় বা বোরোপিত ৩ বছরের জন্য মৎস্য চাষে ইজারা পেতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে পৃথক আবেদন করেছেন। এদিকে শাহিনুর আলম ও আব্দুর রহিম বলেন আমরা দীর্ঘদিন উক্ত যায়গায় পরিবার পরিজন নিয়ে সম্পুর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। বরং শামসুর গাজী গং আমাদের দখলীয় সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টার পায়তারা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জমি দখলমুক্ত করতে দাবী করেছেন। এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর কর্তকর্তা মোঃ রোমিত হোসেন মনি বলেন এ ঘটনা আমাদের জানা ছিল না। আমরা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিবো এবং স্যারদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।