মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর নয় বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক নারীকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফারজানা সুলতানা (৯) কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
দীর্ঘ সময়েও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশের একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন যৌথভাবে এলাকায় তল্লাশি চালায়।
সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬), স্বামী আমিরুলের বসতঘরের ভেতর থেকে ফারজানা সুলতানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য থানার হেফাজতে নেন।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শিশু হত্যার এ নৃশংস ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।