মোঃ ইশারাত আলী :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আদালতের আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার গাজীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমি নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর গ্রামের আবুল হোসেন গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম গাজী ক্রয়সূত্রে বি.আর.এস. ৮৬৫ ও ৮৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৪২৩ নম্বর দাগের ৬৫ শতক জমি ২০০২ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একই গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গাজী কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ওই জমিতে ধান রোপণে বাধা দেন।
ঘটনাটি ৫ সেপ্টেম্বর সকালে কৃষ্ণনগর মৌজার তফসিলভুক্ত ওই জমিতে ঘটে বলে অভিযোগকারী জানান।
জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম গাজী ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি-২১০৬/২৫ নম্বর মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। পরে ১০ আগস্ট ২০২৬ আদালত রবিউল ইসলামের পক্ষে আদেশ দেন বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে তাঁর শান্তিপূর্ণ দখল বজায় রাখতে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে আদালতের ওই আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হচ্ছে তা নিয়ে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার গাজী বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে আমিও জমি পাব। দেওয়ানী আদালতে মামলা চলছে।”
এ সময় জমিতে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার দৃশ্য সাংবাদিকরা ধারণ করতে গেলে তিনি লাঠি হাতে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এদিকে জমির দাবিদার রবিউল ইসলাম গাজী বলেন, আদালতের আদেশের পরও তাঁকে নিজের দাবি করা জমিতে কৃষিকাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ে শক্তি প্রদর্শন কিংবা কৃষিকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।