প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৫, ২০২৬, ৪:২৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৪, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার পাইকারি আমবাজারে হিমসাগর আমের সমাহার, দামের অস্বস্তিতে আম চাষিরা

কামরুল হাসান: সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রবেশদ্বারে মহাসড়কের উভয় পাশে গড়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের সর্ববৃহৎ বেলতলার আমবাজার। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর ও যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগুড়ি (বেলাতলা) এলাকাজুড়ে এ আমবাজারের অবস্থান। ভিন্ন জেলা ও উপজেলার আম ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে গড়ে তুলেছেন এ আমবাজারটি। কিসমত ইলিশপুর ও বাগুড়ি-বেলতলায় প্রায় একশর মতো আমের আড়ত রয়েছে। মধুমাসের এই মৌসুমে এ এলাকা পাইকার ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমজমাট থাকে। এছাড়াও উপজেলার সিংগা গ্রামেও আমের পাইকারি বাজার রয়েছে। এই বাজারেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের যথেষ্ট ব্যস্ততা দেখা গেছে। শনিবার সরেজমিন কিসমত ইলিশপুর- বেলতলার জমজমাট আমবাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মানসম্মত আমের বিপুল সমাহার। বাজারে আসা আমের সিংগভাগই হলো হিমসাগর। এছাড়া নতুন করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে ল্যাংড়া।
মৌসুমের প্রথমে আসা আমের মধ্যে গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোপালভোগ, গোপালখাস, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আমও রয়েছে। বেশিরভাগ আমই বেশ পুষ্ট ও পরিপক্ব। তবে দাম ভালো না পাওয়ায় বেশ হতাশ আম চাষিরা। সময় হয়নি তবুও দেখা গেল অল্প পরিমাণ ল্যাংড়া আম বাজারে আসতে শুরু করেছে। সামনে ঈদ-উল-আজহা। সেকারণে ল্যাংড়া বাজারে আসছে। কেননা, ঈদের জন্য আমবাজার কয়েকদিন ঠিকমতো চলবে না-এমনটি দাবি এখানকার ব্যবসায়ীদের। যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত আমের আড়তগুলো যেনো দৃষ্টিনন্দন আমের এক রাজ্য! বাজারের পাশের গ্রামীণ পাকা সড়কজুড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছোট-বড় ট্রাকের সারি। মৌসুমের শুরুতে প্রতিদিনই ৫০ মেট্রিক টনের বেশি আম এই ট্রাকযোগে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আমবাজারে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বেলতলা পাইকারি আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে বাজার শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। আগামী ২৭ মে ল্যাংড়া গাছ থেকে নামানোর কথা থাকলেও এখন তা বাজারে নিয়ে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ ল্যাংড়া আগাম পরিপক্ব হয়ে যাওয়ায় তা বাজারে তোলা হচ্ছে।
আমের গুণগত মানকে এ বাজারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার বলেন, এ বছর আম উৎপন্ন ভালো হওয়ায় দাম একটু কম। ফলে আম চাষীরা ভালো দাম না পেয়ে বেশ হতাশ। তিনি বলেন, হিমসাগর মণপ্রতি ১৪শ টাকা থেকে মানভেদে ১৮শ টাকা, অন্যান্য দেশি জাতের দাম ১১শ থেকে১২শ টাকায় বেচাবিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে রাসায়নিকে পাকানো বা অপরিপক্ব আম তোলা যাবে না বলে সকল জানিয়ে দেওয়া হয়। এই বাজারে মানসম্মত আমই কেবলমাত্র তোলা হয়। কাজীরহাট ফল ভান্ডারের জয়দেব সেনগুপ্ত, মা এন্টারপ্রাইজের মনিরুজ্জামান মিলন, বিজয় এনাটারপ্রাইজের আনোয়ারুল ইসলামের আড়তে বিপুল আমের সমাহার পরিলক্ষিত হয়। তাঁরা সাংবাদিকদের জানান, ছোটো-বড়ো মিলিয়ে বাজারে একশর মতো আমের আড়ত থেকে প্রতিদিন ৫০ মে. টনের বেশি আম ঢাকা, কানসাট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকযোগে যায়। বেলাতলা আমবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এখন অল্পবিস্তর ল্যাংড়া বাজারে উঠলেও আর কয়েকদিন পর বিশেষ করে ঈদের পর পরই বাজারে পুরোদমে উঠবে সুস্বাদু ল্যাংড়া আম। তারপরে সবশেষে উঠবে আম্রপালি আম। তবে ল্যাংড়া আম বাজারে আসার পর আরও বেশি জমজমাট হবে এই বেলতলা পাইকারি আমবাজার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম নিয়মিত আমের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখেন ও সকলকে কৃষি অধিদপ্তর ঘোষিত আমসংগ্রহের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করার কথা বলেন। তিনি বলেন, ক্যামিক্যাল মেশানো আম বাজারজাতকরণের বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনাসহ জরিমানা কার্যক্রম মৌসুমজুড়ে অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে জরিমানা করাও হয়েছে। তারপরও কেমিক্যাল মেশানো আম বিক্রি হচ্ছে ও অপরিপক্ব আমও উঠছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় আমের আবাদ অর্জিত হয়েছে ৬৫৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,২৩৮ মেট্রিক টন। যা পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে আমের দাম কম থাকায় বেচাবিক্রির টাকার পরিমাণের লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান। তিনি আরও বলেন, এখনো পর্যন্ত বিদেশে আম রপ্তানি এখান থেকে শুরু হয়নি। বিদেশে রপ্তানি শুরু হলে তখন চাষিদের হতাশার কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
https://satnadee.com/