
কামরুল হাসান: কলারোয়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার নামে টাকার বিনিময়ে অর্ধ শতাধিক নারীর কাছ থেকে এনআইডি ও ছবি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে।
উপজেলার কেরালকাতা গ্রামের উত্তরপাড়ার আব্দুল মালেকের পুত্র মিলন হোসেন (৪৫) এর কাছ থেকে ৫২ জন মহিলার ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে কয়েকজন মহিলার কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তাদের সাথে নিয়ে অভিযুক্ত মিলনের বাড়িতে যায় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এসময় ওই মহিলাদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত মিলনের বাড়ি থেকে মিলনকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ৫২ টি ছবিসহ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।
মহিলারা অভিযোগ করেন তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবে বলে সম্প্রতি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মিলন।
সেসময় সেখানে উপস্থিত কেরালকাতা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান- একাধিক মহিলার কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার সকালে মিলনের বাড়িতে গিয়ে মিলনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে ৫২টি ছবিসহ এনআইডি কার্ড বের করে দেয় এবং ফ্যামিলি কার্ড করে দেবে বলে এগুলো নিয়েছে বলে স্বীকার করে। তিনি আরো জানান- মিলন আওয়ামী লীগ কর্মী। সে প্রতারক চরিত্রের, ইতোপূর্বে হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি এবং জেলও খেটেছে। বিএনপি সরকারের ফ্যামিল কার্ড প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত পরিকল্পনায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য দেশের ১৪টি উপজেলাকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিএনপির দুর্নাম করতে কোন চক্র বা গোষ্ঠীর পরিকল্পনায় এটি করা হচ্ছে কি-না সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
এনআইডি কার্ডগুলো উদ্ধারকালে উপস্থিত হেলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুনসুর জানান- আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে চাইলেও স্থানীয় মানুষের অনুরোধে তার পরিবারের জিম্মায় রেখে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় কেরালকাতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তিনি আরো জানান- অভিযুক্ত মিলন সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে একটি দলের হয়ে কাজ করেছেন বলে জানতে পেরেছি।
এনআইডি কার্ড উদ্ধারকালে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কলারোয়া থানার ওসি এইচ এম শাহিন জানান- আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় কোন ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার সরকারি নির্দেশনা আসেনি।

