

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভিডিও কান্ডের জেরে বহিস্কার হয়েছেন জামায়ত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ।শ্যামানগরে দু’দিন ধরে দলীয় অফিসের তালা না খোলার পাশাপাশি প্রকাশ্যে দেখা মিলছে না প্রথম সারির কোন নেতার। সমগ্র ঘটনা ‘এআই’ প্রযুক্তির কারসাজি- বলে একদিন আগেও গলা ফাটানো নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিয়েছে যাবতীয় পোষ্ট।তবে বিপরীত অবস্থা বিএনপির। বুধবার সকালে শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে তাদের দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয়। বিকালে দল থেকে গাজী নজরুল ইসলামের বহিস্কার সংক্রান্ত ঘোষনার পর তারা দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন তারা । সংসদীয় এই আসনে পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনা উঁকি দেয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ভর করেছে। তবে গাজী নজরুল ইসলাম এমপির বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে জামায়াতের কোন নেতা মুখ খুলতে চাননি।এদিকে জামায়াত ইসলামী থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিস্কারের ঘোষনা হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আনন্দ মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে । উপজেলার পৌর সদরে বিএনপি অফিস থেকে আনন্দ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হয় ।
কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিস্কার করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে । জানানোর সাথেসাথে সাতক্ষীরা -৪ আসন শূন্য ঘোষনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে । বিগত সংসদ নির্বাচনে বি এনপির প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান বিপুল ভোটে পরাজয় বরন করেন। আসনটিতে বি এনপির ভোটারের অবস্থান তৃতীয় । এ আসনে আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের অবস্থান সমানে সমান। শূন্য ঘোষনার পর আসনটিতে দলীয় মনোয়ান চাইতে পারেন সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন বিএনপির একটি সুত্রে এমন দাবী করা হয়েছে। অপরদিকে বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ কারী ড. মনিরুজ্জামান ও এড সৈয়দ ইফতেখার আলী এ আসন থেকে বি এনপির মনোনায়ন চাইবেন বলে অপর একটি সুত্র দাবী করেছে।নির্বাচনের পরে ড. মনিরুজ্জামানের সাঙ্গপাঙ্গরা ও তার আপন ভাই নুরুজ্জামান উপজেলা জুড়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে । এত করে ড. মনিরুজ্জামানের ভাবমূর্তি নিম্মগামী ।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, শুধু দল থেকে নয় গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিস্কার করে জামায়াত ইসলামীকে তাদের নীতি ও আদর্শের প্রমান দিতে হবে। একই সাথে গাজী নজরুলকে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবী জানান তিনি ।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলায়মান কবীর বলেন, বিএনপির উর্ধ্বতন কতিপয় নেতা ও তাদের অনুসারীদের বেঈমানীর কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী স্বল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়। তবে জামায়াত দলীয় এমপির ভিডিও কান্ডের পর জনমনে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তাকে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে থাকার নৈতিক অধিকার নেই ।
তিনি আরো বলেন, উপ-নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলে ফলাফলই বলে দেবে গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় দলটির কেমন কবর রচনা করেছেন। অতি সত্ত্বর জাতীয় সংসদ থেকে অপসারণে উদ্যোগ গ্রহনের ব্যাপারে জামায়াত দলীয় প্রধান ডাঃ শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি ।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম সত্তরোর্দ্ধ বয়সে যে নাতনীর বয়সী মেয়ের সাথে অপকর্ম করে ধরা পড়ার পর বিয়ের নাটক সাজিয়েছে এটা অত্যান্ত লজ্জাজনক । আমরা জেলা বি এনপির পক্ষ থেকে তার এবং এ ঘটনায় জড়িত কাজীর বিচারের দাবী জানাই । পাশাপাশি তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল সহ উপ -নির্বচনের দাবী জানান তিনি।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলনা আজিজুর রহমান বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল তারা প্রতিবাদ কর্মসুচি পালন করবে এটা স্বাভাবিক বিষয় । তারা স্থানীয় ভাবে জামায়াতের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পরে এটা কোন বিষয় নয় । দলীয় সিদ্ধান্ত এমপিকে বহিস্কার করা হয়েছে । এরপর দল যদি ইসিকে চিঠি দেয় তাহলে উপ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আমাদের দলীয় প্রার্থী যথাযথ নিয়ম মেনে অংশগ্রহন করবে।