
অনলাইন ডেস্ক : ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ১৪ মাস আগে সৌদি আরবে যান ২৯ বছর বয়সী মো. জামশেদ। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরিও পান এ বাংলাদেশি যুবক। গত ২৬ মার্চ বিকালে সৌদি আরবের আবা শহরের বাসায় স্ট্রোক করেন তিনি। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভর্তি করেন কিং খালেদ হাসপাতালে। ওই দিনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামশেদ।
শুধু জামশেদ নয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এরকম মৃত্যু হরহামেশায় ঘটছে। এমনকি, দিনকে দিন এ সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্যমতে, গত বছর পাঁচ হাজার ৩৮ প্রবাসীর লাশ দেশে এসেছে। হিসাব করে দেখা যায়, প্রতি মাসে গড়ে ৪২০ এবং দিনে গড়ে ১৪ জনের লাশ দেশ আসে। আর চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই লাশ এসেছে ৮৮১ জনের।
১৯৯৩ সাল থেকে প্রবাসীদের লাশ দেশে আসার তথ্য রাখছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৩৩ বছরে ৬২ হাজার ৬৮৮ প্রবাসীর লাশ দেশে এসেছে। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি বছরই লাশের সংখ্যা বাড়ছে। তিন বছর আগেও গড়ে ১০ জন প্রবাসীর লাশ দেশে এলেও তা এখন ১৪ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক লাশ বিদেশের মাটিতেই দাফন করা হয়। অনেক পরিবার লাশ দেশে আনতে চান না। যার ফলে পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশেই লাশ দাফনের ব্যবস্থা করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।
প্রসঙ্গত, লাশ দেশে এলে বিমানবন্দরে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে দাফন ও লাশ পরিবহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বোর্ডের পক্ষ থেকে। এছাড়া বিদেশ থেকে লাশ নিয়ে আসতেও সহায়তা করে বোর্ড।
প্রতি বছর লাশ বাড়ছে
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৫ সালের পর থেকে দেশে প্রবাসীদের লাশ আসার সংখ্যা বাড়ছে। ওই বছরটিতে দেশে এক হাজার ২৪৮ জন প্রবাসীর লাশ এসেছে। ২০০৬ সালে তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৪০২ জনে। এছাড়া ২০০৭ সালে দেশে আসে এক হাজার ৬৭৩ জন প্রবাসীর লাশ।
২০০৮ সালে এসে দেশে প্রবাসী লাশ আসার সংখ্যা দুই হাজার ছাড়াই। বছরটিতে দুই হাজার ৯৮ জন প্রবাসীর লাশ দেশে পৌঁছায়। এছাড়া ২০০৯ সালে দুই হাজার ৩১৫, ২০১০ সালে দুই হাজার ৫৬০, ২০১১ সালে দুই হাজার ৫৮৫ এবং ২০১২ সালে আসে দুই হাজার ৮৭৮ জন প্রবাসীর লাশ।
দেশে প্রবাসীর লাশ আসার সংখ্যা প্রথমবারের মত তিন হাজার ছাড়ায় ২০১৩ সালে। ওই বছরটিতে তিন হাজার ৭৬ জন প্রবাসীর লাশ দেশে আসে। আর ২০১৪ সালে তিন হাজার ৩৩৫, ২০১৫ সালে তিন হাজার ৩০৭, ২০১৬ সালে তিন হাজার ৪৮১, ২০১৭ সালে তিন হাজার ৩৮৭, ২০১৮ সালে তিন হাজার ৭৯৩, ২০১৯ সালে তিন হাজার ৬৫১ জন, ২০২০ সালে তিন হাজার ১৪০, ২০২১ সালে তিন হাজার ৮১৮ জন এবং ২০২২ সালে তিন হাজার ৯০৪ জন প্রবাসীর লাশ দেশে আসে।
২০২৩ সালে এসে দেশে প্রবাসী লাশ আসার সংখ্যা চার হাজার ছাড়াই। বছরটিতে চার হাজার ৫৫২ জন প্রবাসীর লাশ দেশে আসে। আর ২০২৪ সালে চার হাজার ৮১৩ জনের লাশ এসেছে দেশে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি লাশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।
বেশিরভাগই অকাল মৃত্যু
পাঁচ বছর আগে নোয়াখালীর রবিউল আউয়াল জীবিকার তাগিদে আবুধাবির আজমান শহরে যান। সেখানে তিনি কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন। গত বছরের ২৩ মার্চ রাতে ঘুমের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, কোনও রোগে মারা গেলে সেটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধরা হয়। এর বাইরে প্রবাসীদের বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ হচ্ছে দুর্ঘটনা। প্রবাসী কর্মীদের মৃত্যুর কারণ জানতে সরকারিভাবে কোনও গবেষণা করা হয়নি।
তবে, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা যান মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত বা ব্রেইন স্ট্রোকের কারণে। মৃতদের একটা বড় অংশই মধ্যবয়সী কিংবা তরুণ। এছাড়াও হৃদরোগসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, কিংবা প্রতিপক্ষের হাতেও খুন হন বাংলাদেশিরা। এসব মৃত্যু পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগই মারা গেছেন ৩৮ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে এবং কাজে যোগদান করার অল্প সময়ের মধ্যে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হয় না
২০১৭ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৫৫৪ জন মৃত প্রবাসীর তথ্য বিশ্লেষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। সংস্থাটি বলছে, প্রবাসে মারা যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের গড় বয়স ৩৭ বছর। এত অল্প বয়সে মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। বিদেশে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেই তাদের পাঠানো হয়। তারা সেখানে গিয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রবাসের মৃতদেহের সঙ্গে পাঠানো মৃত্যু সনদ যাচাইয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ময়নাতদন্ত করা হয় না। অথচ, স্বাভাবিক মৃত্যু বলে পাঠানো অনেক মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের মধ্যে ৪৮ শতাংশ মৃত্যু সনদে থাকা কারণ বিশ্বাস করে না। তাই মৃতদেহ দেশে আসার পর ময়নাতদন্ত করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
রামরু বলছে, বিদেশে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসীদের মৃত্যুর হার এত বেশি কেন তা কখনও খতিয়ে দেখা হয়নি। আবার এত বেশি কর্মী স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাকে কেন মারা যাচ্ছেন তার সঠিক কারণ জানতেও অনুসন্ধান করা হয়নি। তাদের মৃত্যুর কারণে যা লেখা হয় তাও পুনরায় খতিয়ে দেখার নজির নেই।
প্রবাসীদের অভিযোগ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ এড়াতেও স্ট্রোকে কিংবা হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর কথা ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয় অনেক সময়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, প্রবাসীদের লাশ সবচেয়ে বেশি আসে সৌদি আরব থেকে। এছাড়াও জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাশ দেশে আসে।
প্রবাসীর মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত পুরো পরিবার
প্রবাসীদের অকাল মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার পুরো পরিবার। বেসরকারি সংস্থা অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) ২০২০ সালে একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছে, ৯৫ শতাংশ অভিবাসী কর্মীর মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটে পড়ে যায় তার পুরো পরিবার। তার মধ্যে ৫১ শতাংশ পরিবারের ৮০ ভাগ আয় কমে যায়। পাশাপাশি ৮১ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্যসেবা পেতে সংকটে পড়ে। ৬১ শতাংশ পরিবারের সন্তানেরা স্কুলে যাওয়ার সক্ষমতা হারায়। আর ৯০ শতাংশ পরিবারই দৈনিক খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
প্রবাসীর মৃত্যুর পর ৪৮ শতাংশ পরিবারই বিষণ্ণতায় ভোগে। ৪০ শতাংশ পরিবারের ঘুমের জটিলতা তৈরি হয়। তাছাড়া কিছু কিছু পরিবারের এক ধরনের দায় চাপাচাপির মতো পরিবেশ তৈরি হয়।
জলবায়ু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য মূলত মরু আবহাওয়ার দেশ। প্রচণ্ড গরমে প্রতিকূল পরিবেশে অদক্ষ এই বাংলাদেশিরা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন। একদিকে প্রতিকূল পরিবেশ, আরেকদিকে অমানুষিক পরিশ্রম, ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকা, দীর্ঘদিন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং সব মিলিয়ে মানসিক চাপের কারণেই সাধারণত স্ট্রোক বা হৃদরোগের মতো ঘটনা ঘটে।
২০২৩ সালে ‘প্রাণঘাতী তাপ: উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী কর্মীদের ওপর চরম তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে রামরু জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অবকাঠামো নির্মাণ খাতে কাজ করে। এই শ্রমিকদের দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। ফলে তাপজনিত নানা রোগ আক্রান্ত হন তারা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দেশে তাপ আরও বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত তাপ।
চরম তাপ ও সূর্যালোকে অনেক সময় কাজ দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়, যার জন্য আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এতে প্রবাসীরা অকালমৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় এবং কাজ করার ক্ষমতা হারায়। দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শরীরে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগ, বহুমূত্র রোগ, কিডনি রোগের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) ছয়টি দেশে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি দু’জনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায় না। এমন মৃত্যুকে প্রাকৃতিক কারণ বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হিসেবে সনদ দেওয়া হয়। বিপজ্জনক ঝুঁকি থাকলেও কর্মীদের ওপর তাপের প্রভাব সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। তাপসংক্রান্ত কারণে প্রাণহানি বা কোনও মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যের নিবন্ধন নেই।
যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের প্রভাবে মৃত্যু
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মৃত্যুর শঙ্কা বাড়ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তিন দেশে পাঁচ বাংলাদেশি মারা গেছেন। এর মধ্যে তিনজন সৌদি আরবে এবং একজন করে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এছাড়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়েছে ১০৪ বাংলাদেশি। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৪ জন মারা গেছেন। ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা সবসময় বলি প্রবাসীদের এসব মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে। কারণ, আমরা যদি কিছু লাশ স্যাম্পল ধরে গবেষণা করি, তাতে বোঝা যায় যে কী কারণে মারা গেছে। আমরা দেখেছি, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব কর্মী মারা যান, তার বড় কারণ হচ্ছে— আমাদের কর্মীরা স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো জানেন না। ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন। আর অবৈধভাবে যাওয়ার ফলে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। অনেকে আবার সস্তায় মাংস ও সিগারেট খেতে চান, গাদাগাদি করে থাকেন। অনেক বিষয়ে কর্মীদের কিন্তু যাওয়ার আগেই সচেতন করা যা।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশে গিয়ে জীবনটা কেমন হবে, চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ কীভাবে নেবে, কীভাবে থাকবে– এসব বিষয়ে যদি সচেতনতা তৈরি করা যায়, তাতেও এই অস্বাভাবিক মৃত্যু অনেকখানি কমিয়ে আনা যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা এত মৃত্যুর যে কারণ খুঁজবো, সেরকম কিছু এখনও পর্যন্ত হয়নি। অনুসন্ধান করলে কিছু পরামর্শ তৈরি করা যেতো।”
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলেন, “অভিবাসী কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা পুনরায় ময়নাতদন্ত করার সুযোগ বের করা দরকার। যে মৃত্যু বলা হচ্ছে হার্ট অ্যাটাকে সেটার কারণ কী অথবা যে রিপোর্টগুলো হচ্ছে সেখানে ম্যানিপুলেশন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ, নিয়োগকর্তার দায় এড়ানোর সুযোগের জায়গা থেকে এমনটা করা হতেই পারে। যারা হার্ট অ্যাটাকে মারা যাচ্ছে তারা খুব কম বয়সের। এই হার্ট অ্যাটাকের কারণটি আসলে কী সেটা জানা দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “একজন কর্মীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের আর্থিক সংকট তৈরি হয়। আমরা যখন অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষার কথা বলি, তখন এই মারা যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কতটুকু কাজ করা হয়? কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা আছে, সেক্ষেত্রেও বিমার টাকা আদায়ে দূতাবাস একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। মারা যাওয়া কর্মীদের বিমার টাকা দাবি করা হয় কিনা তা আমরা জানি না। এ বিষয়গুলা একটু ভালো করে খতিয়ে দেখার দরকার আছে।”
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া বলেন, “দেশে আসার পর ময়নাতদন্ত করা সম্ভব। এতে মৃত্যু সনদে থাকা তথ্যের ভুল ধরলে যে দেশ থেকে কর্মীর মরদেহ এসেছে, তারা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারে, সেটিও ভেবে দেখতে হবে।”