মো. ইশারাত আলী : কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের রাজনীতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্বে গাজী পরিবারের দীর্ঘ উপস্থিতি রয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বে থাকা এই পরিবারের ধারাবাহিকতার বর্তমান প্রতিনিধি আলহাজ্ব গাজী শওকাত হোসেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এবারও তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গাজী পরিবারের স্থানীয় রাজনৈতিক পথচলার সূচনা গাজী শওকাত হোসেনের প্রয়াত পিতা ও সাবেক চেয়ারম্যান গাজী খোরশেদ আলমের মাধ্যমে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারটির সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
পরিবারটির দাবি, ১৯৭৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৮ বছরের সময়কালে প্রায় ৩৭ বছর বিভিন্ন মেয়াদে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব বা দায়িত্বের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল। দীর্ঘ এই সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন গাজী শওকাত হোসেন। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী তিনি ৫ হাজার ৩৮৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী সজল মুখার্জী পান ৪ হাজার ২৭৬ ভোট। ফলে শওকাত হোসেন ১ হাজার ১০৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পান।
বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে গাজী শওকাত হোসেনের পক্ষ থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৯টি রাস্তার নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।
ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের সামাজিক বাস্তবতায় হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থানও স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চেয়ারম্যানের সমর্থকদের দাবি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শওকাত হোসেন ভূমিকা রেখে চলেছেন।
আগামী নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাজী শওকাত হোসেন। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ শেষ করার পাশাপাশি ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদকে আধুনিক ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গাজী শওকাত হোসেন বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি ইউনিয়নবাসীর জন্য আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করব।