আজিজুর রহমান(শ্যামনগর) প্রতিনিধি:ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময়ের আভাস পাওয়ার পর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণসংযোগ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের ইউপি নির্বাচনে তেমন দেখা যায়নি। ফলে ১২টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা অনেকটা একচেটিয়া অবস্থানে ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এসেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
প্রার্থীদের অনেকেই এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। কেউ কেউ উঠান বৈঠক, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন হলো—ভূরুলিয়া, কাশিমাড়ী, শ্যামনগর, নূরনগর, কৈখালী, রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, ঈশ্বরীপুর, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, পদ্মপুকুর ও গাবুরা। এর মধ্যে শ্যামনগর সদর, ভূরুলিয়া ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে শ্যামনগর পৌরসভা গঠিত হয়েছে। ইউপি ও পৌর নির্বাচন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা বিভিন্ন স্থানে পোস্টার টাঙিয়ে এবং গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি নিয়মিত উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করছেন তারা।
স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে না পারায় বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ফলে নির্বাচনী মাঠে দল দুটির প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রচারণা আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করছেন তারা।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সুলাইমান কবীর বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে সময়ের ব্যবধানে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। কেউ বিরোধিতা করলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, জামায়াত একটি আদর্শভিত্তিক সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। যথাসময়ে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইউপি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচারণা ও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।