
অনলাইন ডেস্ক: ‘ইংরেজি ভাষা শিখতে ৩৫০ জন সচিবকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে’— বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্যকে সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, এটি কেবল ইংরেজি শেখার কোনও বিষয় নয় এবং ৩৫০ জন সচিব পাঠানোর কোনও পরিকল্পনাও সরকারের নেই। প্রকৃতপক্ষে ‘প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জন’ (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্কিল ডেভেলপমেন্ট) বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণের প্রস্তাব প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই প্রকল্প চূড়ান্ত করতে একনেকের অনুমোদন লাগবে। অথচ বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত কোনও একনেকের সভাই অনুষ্ঠিত করেনি।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ছড়িয়ে পড়া সংবাদটি পুরোপুরি সঠিক নয়। বাংলাদেশ সরকারে ৩৫০ জন সচিব বা সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাই নেই। প্রস্তাবে মূলত উপসচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কথা বলা হয়েছে। আর এটি ইংরেজি শেখার প্রকল্প নয়, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যেখানে একটি টিমকে থাইল্যান্ড পাঠানোর কথা চিন্তা রয়েছে। প্রকল্পটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, যেকোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এখনও কোনও একনেক সভা করেনি। ফলে এটি চূড়ান্ত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
একনেক সভার প্রস্তুতি ও প্রকল্পের তালিকা
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি নতুন এবং ৮টি পুরোনো সংশোধিত প্রকল্প।
এছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্প অব্যাহতির জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে এই তালিকার কোথাও ইংরেজি শিখতে ৩৫০ সচিবকে থাইল্যান্ড পাঠানোর কোনও প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই।
বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তাদের অভিমত
সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। প্রথমত, দেশে সচিবের সংখ্যা ১০০-ও নয়, সেখানে ৩৫০ জন সচিবের কথা বলা ভিত্তিহীন। দ্বিতীয়ত, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, একে ‘ইংরেজি শেখা’ বলে চমক সৃষ্টির চেষ্টা করা অনভিপ্রেত। তৃতীয়ত, ‘প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জন’ শীর্ষক যদি কোনও ট্রেনিং প্রকল্প হয়ে ধাকে, তা হতেই পারে। চতুর্থত, প্রকল্পটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এ ধরনের হাজারো প্রকল্পের কথা হয়— সব প্রকল্পই সরকার অনুমোদন দেয় না। সর্বোপরি, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য সরকার ও প্রশাসন সম্পর্কে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে, ইংরেজি শিখতে ৩৫০ জন সচিবকে থাইল্যান্ড পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্যের সত্যতা নাকচ করে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার করা হলো।