নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং জনস্বাস্থ্যগত সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ‘কমিউনিটি ঝুঁকি নিরূপণ (Community Risk Assessment)’ বিষয়ক একটি দিনব্যাপী টেবিলটপ মহড়া (TTX) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ আগস্ট আশাশুনি উপজেলার একটি স্থানীয় ভেন্যুতে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে পরিচালিত ‘RISK-E-SCAPE Project’-এর অংশ হিসেবে Independent University, Bangladesh (IUB) এই মহড়ার আয়োজন করে।
মহড়ায় আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে মোট ৩১ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা, নারী প্রতিনিধি, যুবক-যুবতী, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
মহড়া চলাকালে উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বাস্তবসম্মত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে উপস্থাপন করা হয়। এতে অতিবৃষ্টি, জোয়ারজনিত প্লাবন, জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, সুপেয় পানির তীব্র সংকট, স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাঘাতের মতো সম্ভাব্য সংকটগুলো তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে দলভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকি বিশ্লেষণ, বিদ্যমান সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে করণীয় নির্ধারণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্থানীয় জনগণের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রথাগত জ্ঞানের সাথে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাত ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিকল্পনায় নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অতি-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানানো হয়, এই টেবিলটপ মহড়ার মাধ্যমে অর্জিত তথ্য ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর ‘কমিউনিটি ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি কর্মপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো বন্যা ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি ব্যবহার করা যাবে। একই সাথে এই মহড়ার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠক্রম উন্নয়ন, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, 'RISK-E-SCAPE' প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও নেপালে পরিবেশগত সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষা, গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অনুশীলনের মাধ্যমে স্থানীয় দুর্যোগ প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করা।