
মো. ইশারাত আলী :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মৌতলা ইউনিয়নের পরমানন্দকাটি মৌজায় একটি জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসএ ১৪ খতিয়ানের ৪১৭ দাগের ২৬ শতক জমির মধ্যে ১০ শতক জমিতে আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ সুনীল কর্মকার গং এই অবৈধ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকৃত জমির মালিকরা।
কাগজপত্র ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৬টি এস এ খতিয়ান মূলে সুনীল কর্মকারের বাবা ভূধর কর্মকারের মোট জমির প্রাপ্ত অংশ সাড়ে ৩৮ শতাংশ। এর মধ্যে দলিল নং ৮২৯৯/১৯৭০ মূলে সাড়ে ১৭ শতক, ৬২৭৮/১৯৬৯ দলিলে সাড়ে ১৮ শতক এবং ৮২৭৮/১৯৭০ মূল্যে ২ শতক সব মিলিয়ে সুনীল কর্মকারের বাবা ভূধর কর্মকার তার অংশের পাওনা ৩৮ শতকের চেয়েও অতিরিক্ত ২ শতক জমি বেশি বিক্রি করেছেন। উপরন্ত কাগজপত্রে বিবাদী সুনীল কর্মকার গং তার বাবার ক্রয়কৃত ৬০৪/৮৬ দলিল মুলে ৯ শতক জমি খরিদ করেন। কিন্তু কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, গায়ের জোরে আরও ৯শতক সহ অন্যান্য শরিকদের জমি জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা নং ২৪৭/২০২২ পাটিশন মামলা দায়ের করেন এবং বাদীপক্ষ মাহবুবর রহমান গং আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করেন যাহাতে সুনীল কর্মকার জমিতে অনুপ্রবেশ করিতে না পারে। এ মর্মে আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে বাদী মাহবুবর রহমানের পক্ষে রায় দেন। যার আদেশ নং ১৪ তারিখ ২২/১১/২৩। পরবর্তীতে বিবাদী সুনীল কর্মকার গং উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা জর্জ আদালতে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আপিল আদালত নিন্ম আদালতের রায় বহাল রাখেন। যার মিস আপিল নং ১০/২০২৪।
পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ সুনীল কর্মকার উক্ত দুটি রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। যার নং ২২২৬/২০২৫। বিজ্ঞ হাইকোট ডিভিশন মাহবুবর রহমানের পক্ষে দখল শর্ত বজায় রেখে উভয় পক্ষকে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে বলেন।
দখল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করলেও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আপিল ট্রাইব্যুনালে ৬৮/২০১৭ নম্বরের মামলায় ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন সুনীল কর্মকার।
এই রায়ের বিরুদ্ধে বাদী মাহবুবর রহমান হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং ২৬৮১/২০২৩) দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ওই ডিগ্রিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে ২৭৬ খতিয়ানের ২৫ শতক জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে বৈধ মিউটেশন ও হাল খাজনা অনুযায়ী আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন পরমানন্দকাটি গ্রামের গোলাম ছরোয়ারের পুত্র মো. মাহবুবর রহমান ও তার মা মোছা. হাচিনা খাতুন।
তবে সকল আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সুনীল কর্মকার গং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পরমানন্দকাটি গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী, আবুল খায়ের, শফিকুল ইসলাম, প্রশান্ত সাহা জানান, সুযোগ পেলেই সুনিল কর্মকার তার দলবল নিয়ে জমিতে এসে জবরদখলের চেষ্টা চালায় এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে সুনীল কর্মকার পরাজিত হয়েও তিনি প্রকৃত জমির মালিক মাহবুবর রহমান ও তার মা হাচিনা খাতুনকে নানাভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
কালিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক গোপী রঞ্জন অধিকারী এ বিষয়ে বলেন, "সাধারণত সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয় বলে প্রচার থাকলেও, এখানে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। এই ঘটনার ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিক মো. মাহবুবর রহমান ও তার মা মোছা. হাচিনা খাতুন বরং সুনীল কর্মকার কর্তৃক নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুনীল কর্মকারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন আছে। তার কাছে কোন ডকুমেন্ট আছে কিনা জিঙ্ঘেস করলে তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি এবং কাগজপত্র কোর্টে আছে বলে এড়িয়ে যান।
জমির প্রকৃত মালিক মো. মাহবুবর রহমান ও তার মা মোছা. হাচিনা খাতুন বলেন, "সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমরা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি অধিকার ফিরে পেয়েছি। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ সুনিল কর্মকার গং আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। আমাদের বৈধ সম্পত্তি যেন জবরদখল হতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি।"
জমির প্রকৃত মালিক মোঃ মাহবুবর রহমান ও তার মা মোছাঃ হাচিনা খাতুন বলেন, “দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আমরা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছি। আদালতের নির্দেশ ও সরকারি নথি অনুযায়ী পরমানন্দকাটি মৌজার ২৭৬ খতিয়ানে ২৫শতক জমি মিউটেশন, হাল খাজনা আমাদের। আমরা আমাদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।