মেহেদী হাসান, খুলনা প্রতিনিধিঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি ‘অযৌক্তিক’ নোটিশ প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, উক্ত নোটিশ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি চিকিৎসা শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।
সোমবার (০৮ জুন) সকালে নগরীর শিববাড়ী চত্ত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নোটিশ (স্মারক নং-৫৯.০০.০০০০.১৪০,১৬.১০.২৫.৩৩৬) বাস্তবতা বিবর্জিত এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও জানান, তাদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অযৌক্তিক নোটিশ প্রত্যাহার, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসকদের ন্যায্য ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধি, এবং স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নোটিশ প্রত্যাহার করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যা শিববাড়ী চত্বরের আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে জোরালো স্লোগান দেন এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।