
আব্রাহাম লিংকন শ্যামনগর থেকে: খুলনার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার রাজিব আহাম্মেদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আইনের অপব্যবহার ও কোটি টাকার বানিজ্যের মাধ্যমে তিনি শ্যামনগরের জয়াখালী গ্রামের বহু পরিবারকে তাদের পৈতৃক ভিটে থেকে বঞ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের মিস মামলা নং-৮২৭/২৪ এ এসএ ম্যানুয়াল ১৯৩৫ এর ৫৩৩ ধারা দেখিয়ে রায় প্রদান করেন অফিসার রাজিব আহাম্মেদ। কিন্তু এই রায়ের ফলে জয়াখালী গ্রামের প্রায় ৩০ জনের বসতভিটা অন্যদের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, ৫৩৩ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে—কোন খতিয়ানে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সেটেলমেন্ট অফিসার সংশোধন করতে পারবেন। কিন্তু মৌজা এখনও গেজেটে প্রকাশিত না হওয়া অবস্থায় কোটি টাকার বিনিময়ে একতরফা রায় দিয়ে বহু জমির মালিকানা অন্যদের নামে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তিকে বাদী সাজিয়ে জমি দখল: জয়াখালী গ্রামে এমনকি মৃত ব্যক্তিদের পক্ষভুক্ত বাদী দেখিয়েও রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেমন—মৃত আহম্দাদ গাজীর পুত্র মোজাদ্দীদ দিংয়ের ৬০ বছরের ভোগদখলে থাকা হাল দাগ নং ৪৯৩৬-এর বাড়ি ও পুকুর, গাছপালা অন্য এক মৃত ব্যক্তি খয়রাতের নামে রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া—হাফিজুরের বাড়ি (দাগ নং ৬১১৩, ৬৫১০, ৬৫২৮) শহিদের নামে, আমিরুলের বাড়ি (দাগ নং ৫০১১) মজিদের নামে, শহিদুলের বাড়ি খয়রাতের নামে। এভাবে অন্তত ৩৫-৪০ জনের বসতভিটা অন্যদের নামে রেকর্ড হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ: ভুক্তভোগী মোজাদ্দীদ ও আমিরুল বলেন, “আমাদের বৈধ কাগজপত্র আছে, দীর্ঘদিনের দখল আছে। কিন্তু মৌজা পাবলিষ্ট হওয়ার আগেই জালিয়াতি করে আমাদের জমি অন্যদের নামে রেকর্ড দেওয়া হয়েছে। এ অপকর্মের নেপথ্যে আছে সেটেলমেন্ট অফিসের পিওন জাকির। তিনি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সাথে যোগসাজশ করে কোটি টাকা সংগ্রহ করে অফিসার রাজিব আহাম্মেদকে দিয়ে বেআইনি রায় করিয়ে নিয়েছেন।” তাদের অভিযোগ, এরই মধ্যে জমি দখল নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মত: স্থানীয় আইনজীবীরা জানান, এসএ ম্যানুয়াল ১৯৩৫ এর ৫৩৩ ধারা অনুসারে কেবলমাত্র প্রকাশিত খতিয়ানে যদি প্রতারণামূলক এন্ট্রি পাওয়া যায় তবে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। মৌজা গেজেটে প্রকাশের আগেই রেকর্ড পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে এই রায় সম্পূর্ণ বেআইনি এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
প্রশাসনের দ্বারস্থ গ্রামবাসী: বেআইনি রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থেকে চিরস্থায়ী দাঙ্গা: স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্রিটিশরা আমাদের জমি জমিদারদের হাতে তুলে দিয়ে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করেছিল। আর এখন বাংলাদেশ সরকার জরিপের নামে সেটেলমেন্ট অফিসের মাধ্যমে চিরস্থায়ী দাঙ্গার বীজ বপন করছে।”
আশঙ্কা: গ্রামবাসীর দাবি, যদি দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে জয়াখালীসহ আশপাশের এলাকায় স্থায়ী দাঙ্গা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হবে।