
স্টাফ রিপোর্টার: দেবহাটার নওয়াপাড়া ইউনিয়নে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমির পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে রামনাথপুর মৌজায় বিচারধীন জমি থেকে মাছ অভিযোগ উঠেছে কামটা গ্রামের আক্তার গাজীর ছেলে রুহুল আমিন লিটনের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ রানা সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা নং:- ৭৮/২০২৫ দায়ের করলে ০২/০৬/২৫ তারিখে সহকারী জজ আরিফ-উল-ইসলাম একটি আদেশ প্রদান করেন। এতে বলা হয় বিবাদীপক্ষ যাতে জোর পূর্বক প্রবেশ না করে এবং বাদীর শান্তিপূর্ন ভোগ দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারেন বা নালিশী জমির ঘেরের ভেড়ীবাধ ভেঙ্গে নিতে না পারেন বা নালিশী জমির আকৃতি প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারবে না। এছাড়া ইংরেজি ১০/০৯/২৫ নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে শুনানী হয়। অত্র মোকদ্দমার দেং- ৬৪/২৫ নং মোকদ্দমার একত্রে পাশাপাশি বিচারের জন্য দাখিল কারার জন্য নির্দেশ দেন বিচারক। সেই সাথে সার্বিক পর্যালোচনায় বাদীর প্রার্থিত মতে বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হবে না তদমর্মে নোটিশ প্রাপ্তির ২১ দিনের মধ্যে ১/২ নং বিবাদীকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও বিবাদী রুহুল আমিন লিটন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নালিশি জমিতে মেশিন বসিয়ে পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরে নিয়েছে বলে জানান ওই মামলার বাদি মাসুদ রানা।
তিনি আরো বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে কিছুদিন পূর্বে তাকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে নানাভাবে হয়রানির করা হয়। পরে তিনি গত ২২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি আরো জানান, কয়েক বছর আগে ৬২৯ নং দলিল মূলে রামনাথপুর মৌজায় ৪১.২৫ শতক জমি ক্রয় করেন। যার বিআরএস খতিয়ান-১৮৬, দাগ নং-৫০৪, অপর খতিয়ান ৪৯৭ এবং ৫০৫ নং দাগে। উক্ত জমি ক্রয় করার পর থেকে তিনি ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু ওই জমির দক্ষিণ পাশে বসবাসকারী কামটা গ্রামের আক্তার গাজীর ছেলে রুহুল আমিন লিটন দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গোলযোগ চলে আসছে। এমনকি একের পর এক মামলায় মাসুদ রানাকে আসামি করে হয়রানী করে আসছে কিছু ব্যক্তি।
বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে লিটনের প্ররোচনায় স্থানীয় দলীয় নেতা টাকা আদায়ের লক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনার জের ধরে গত ২০ অক্টোবর রাতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানীর চেষ্টা করে। একটি মিথ্যা মামলায় তাকে এজারভূক্ত আসামী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে দেবহাটা থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, আদালত অবমাননার বিষয়ে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না সে ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেবহাটা থানায় মাসুদ রানার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।

